শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০

অপ্সরী তুমি কি আমার প্রহর হবে?

অপ্সরী তুমি কি আমার প্রহর হবে? 

তোমার ঠিকানাটা আমার জানা হয়নি,
হয়তো মনটাও।
তবু আমি ভাষা হারাই তোমার চোখে,
আমি গুলিয়ে যাই তোমার কণ্ঠে

কাছে আসার সাধ্যিটাও নেই,
হয়তো গুঁড়িয়ে যাব জীবনের আঘাতে,
তবু একটাবার তোমার প্রিয় হতে চাই

আজও খুঁজে বেড়াই,
মুগ্ধতা নিয়ে ঘুরে বেড়াই,
তোমার শহরের অলিগলি
সরু রাস্তায়, কতশত গোলকধাঁধায়।

জানি
তবু তোমায় পাওয়া হবেনা,
চোখে চোখ রেখে মুগ্ধ হওয়া হলো না
এই শহরেই কিনা হারিয়ে যাই,
কোন গোলকধাঁধায় পথ হারিয়ে,

ক্লান্ত হয়ে শুয়ে শুয়ে গুনব,
অজ্ঞাতবাসের প্রহর,
তবু আমার অকৃত্তিম প্রার্থনার,
শেষ শব্দটিতেও মিশে থেকো তুমি,

অক্লান্ত ছড়িয়ে যেও,
তোমার সুরের হাসিতে আলোয়,
সেই ঝলকেই যে চোখ মুদব আমি,

আমার চোখে তখন থাকুক, 
তোমার প্রিয় হাসি
তখনও হয়তো স্বপ্নে চাইব,
খুব চাইব,

তুমি আসবে,
চোখ গরম করে,
ঠোঁট ফুলিয়ে নেমে আসবে,
ভীষণ শোরগোলে আসবে,
যেমন মরুভূমির রিক্ততা,
সাগর মুহূর্তেই ভাসিয়ে নেয়

আমি তখন স্বপ্নকুমার,
একগাল হেসে গাইব প্রিয় গানটা,
আমি তোমার চোখের কালো চাই

তুমি কি সেদিন তাকাবে আমায়
কাঁপা কাঁপা হাতটা ধরে বলবে
রাস্তাটা না শেষ হোক
নাকি মুখ ঘুরিয়ে চলে যাবে

অপ্সরী তুমি কি আমার প্রহর হবে? 


শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০

অবলোকন - ২

শুনেছো কি তুমি,

আমি সর্বপ্রাণে,

করেছি শিখর আরোহন,

তাই সময় আমায় করছে নির্বাক।।

অগ্নির অহংকার চিরায়ত শুদ্ধতার,

আজ ভঙ্গুরসম,

অশুভ হাতিয়ার বনেছে বলে,

তোমার ক্ষীণ নিনাদে জানি আগুন ছিল,

প্রতিবাদের শুভ্র আগুন,

সে আগুন নিভেনা শত যন্ত্রণারও তোপে।


তোমার দগ্ধ শরীরে,

আমি অস্ফুট কান্না শুনতে পাই,

ঐ পিশাচের রুদ্রমূর্তিতে,

শিষ্ট আজ কোনঠাসা পড়ে রয়,

শুদ্ধতা আজ অস্তিত্বের খোঁজ করে।


সত্য এখন তাই,

দূরে দূরে মুখ লুকায়,

অসহায় বিজিতরূপে,

নিস্তেজ অদম্য ক্ষোভে,

ফিরবেনা সহসা জেনো,

তোমাদের এই প্রহসনের নগরীতে,

মিথ্যের রাজত্বের অপমানে,

তুচ্ছার্থের অভিমানে।



তবু তুমি বেঁচে থাকবে,

যতদিন হাতের ওই মশালটা জ্বলবে,

এবং তুমি বেঁচে থাকবে,

প্রতিবাদের আবাহনে,

তুমি বেঁচে থাকবেই,

তেজদীপ্ত আলো হয়ে,

হ্যাঁ তুমি বেঁচে থাকবেই,

এই ধরণীর ধারক হয়েই,

সত্য,

তুমি বেঁচে থাকবেই,

প্রতিরোধে সাহসের বাঁধ হয়ে৷ 



শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২০

অবলোকন -১



মুখোমুখি কখনো হবনা তোমার,




স্পর্শটাও হয়ত পাব না তোমার,




তবুও আমার প্রিয় রাজপথে,







চারচাকার অনর্গল আর্তনাদের ভীড়ে,







আনমনেই একটা ছায়াদৃশ্য ভাসে,




একটা হাতটা এসে আমায় থমকে দেয়,



মৃদু পরশে প্রিয় তুমি গন্ধটা বাতাসে ভেসে যায়,




কোথা থেকে যেন ছড়িয়ে যাচ্ছে,



একটা মিষ্টি সুর ,



সেই সুরে আমি চমকে উঠি,



তুমি শব্দটা শুনে,



ঝমঝম এক আলোড়নে হৃদকম্পন বাড়ে,


একটা হাসি যেন আকাশবাতাস কাঁপিয়ে নিচ্ছে,



সে হাসিতেও তুমি গন্ধটা ভেসে আসছে,


আমি কানপাতি


ছমছম আওয়াজের আশায়,


কিন্তু সে আড়ি নিল কোন অভিমানে,


চোখ খুঁজে কাঙখিত অবয়বে,


চোখে চোখ রেখে মন খোলার তাগিদে,



সিগন্যাল ছেড়ে দিল,


গাড়ি চলতে শুরু করল,


তুমি গন্ধটা উড়ে যাচ্ছে


উড়ছে আমি মানুষটাও


শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯

দৈনন্দিন - ২


ব্যস্ত নগরীর বড় রাস্তাটায় বাধা পড়েছি সেই তখন,
ভাবছি পাব কখন গন্তব্যের দেখা,
ট্রাফিকের অবিচল শব্দবোমাকে ছাড়িয়ে,
আমি শুধু দেখি, শুধাই আমার রূপবতী শহরকে,
চোখভরা মুগ্ধতা নিয়ে মনের ক্যানভাসে,
শহরের ছবিটা আকি নিজের মতন,


এই নগরে জোয়ার নেই, মাটিতে শিকড় নেই,
চিত্তের শ্রান্তি নেই,
তবে আছে কিছু মায়া আর মমতা,
আমরা জেনেছি আর শিখেছি, অবিরাম ছুটে চলা,
চলার পথে কখন কবে নিজেকে হারিয়েছি তা জানিনা,


আছে হন্তদন্ত কিছু পায়ের সশব্দ স্পন্দন,
আছে দাম্ভিক হর্নগুলির বিরতিহীন গর্জন,
এই শহরে যন্ত্র আছে, কিন্তু মন নেই,
যন্ত্রের যন্ত্রণায় মনটাই যন্ত্র হয়ে গেছে,


ফুটপাথগুলোর গল্প শুনতে শুনতে যাচ্ছি,
অবুঝ শিশু কেঁদে যাচ্ছে মায়ের কোলঘেঁষে,
কারো ঠুলিবাধা কানে পৌছুতে পারছেনা সে,


পঙ্গুত্বের অভিশাপ কান্না হয়ে ঝরে যাচ্ছে,
ধূলোভরা শরীরটাকে ঠেলে চলে যাচ্ছে,
মমতা পেলো না কারও,
ফুটপাথটা শত সমস্ত কষ্টের ভার নিয়েছে,


রাজপথ শুয়েছে বুকে রাজার ইতিহাস নিয়ে,
কতশত স্মৃতি অসীম দেয়ালগাথায় লিখছে অবিরাম,


সিটিং বাসে ঝুলতে থাকা ক্লান্তযাত্রীর দীর্ঘশ্বাস,
লাইমলাইটের মায়াবী আলোয়
চকচকে ঘাম ভেসে ওঠছিল,
সেই ঘামে মিশেছিল একচিলতে হাসি,



সুখনীড়ে অপেক্ষায় প্রিয় হাসিমুখ।




মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৯

দৈনন্দিন - ১

শুনি নিয়তির ক্রুদ্ধ নিঃশ্বাস,
চারপাশে ঘুরেঘুরে ফেরত আসে,
আমাদের দৈনন্দিন দীর্ঘশ্বাসে,
নিয়তির করাল গ্রাসে,
কিংবা সময়ের ঘাতপ্রতিঘাতে,
বাস্তবতা অন্য আলোয় সাজে,
সংকটের আগ্রাসনে,
অস্তিত্বের হাহাকার বাড়ে,
সত্বার হাঁপিয়ে উঠার তালে,
দাবা ছকে বাঁধা জীবনে ,
জন্মান্তরের দানবিভ্রাট চলছেই,
অদৃষ্টের আকাশে কালমেঘের ছুটাছুটি,
আত্মগোপনে ছোবলের অপেক্ষায়,
অমাবস্যার শশীর মত অদৃশ্য স্পর্শে,
ইচ্ছেপাখিরা উড়াল দেয় মহাগহবরে,
পথভ্রষ্ট প্রাণহীন কোলাহল ছাড়িয়ে,
হারাতে চাই অনিকেত প্রান্তরে,
তাড়া করব পিছে আপন ছায়ার,
চুকেবুকে যাক সব অনুভূতি শ্রান্ত কায়ার।


বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৯

প্রলাপ - ২

জানো আজ আমি একাই রাতের প্রহর গুনি,
নিশ্চুপ জানালার ধারে বসে থাকি ,
নির্ঘুম চোখে চেয়ে রই তারাভরা আকাশের পানে,
অন্ধকারে হাতরে ফিরি মুহূর্তগুলো প্রবল আকাঙ্ক্ষায়,
স্তব্ধ নিরবতা আমায় ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে,
তবু আমি খুঁজে যাচ্ছি হারানো অনুভূতিগুলোকে,
আমার সত্ত্বা চঞ্চল প্রবোধকে বাধা দিয়ে যাচ্ছে তবু ,
হৃদয় আজ বাধ মানছে না একদমই,
অব্যক্ত কষ্টগুলো গলার ভেতরে থাকা ক্রোধগুলোকে জাগিয়ে তোলে,
তবু নিশব্দে বসে রই কি যেন পাবার অপেক্ষায়
জানি এ অপেক্ষা ফুরোবার নয়।।।।


সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

প্রলাপ - ১



আজ আছি বেশ ভালো,
প্রাণে জাগে আশার আলো,
প্রতিটি ধূলিকণাও আজ অন্তরে উচ্ছ্বাস জাগায়,
জোনাকির আলো ধূসর প্রান্তরে পথ দেখায়,
আজ আমি স্ফুটন্ত লাভার মত,
ছুটে চলি পথ অনাগত,
বিপ্লব আমারই জন্য অপেক্ষা করে রয়,
এ পথ শেষ হবার নয়,
ধরণী মমতা ভরে চেয়ে থাকে আমার দিকে,
আমার আছে শক্তি অনন্ত,
তাই ধরণীর বুকে মানবতার নাম যাই এঁকে,
কিন্তু যদি ফুরোয় এদিন?
যদি খুঁজে না পাই আপন ছায়া
পাবো কি আলোর এ ছোঁয়া
কেউ কি রাখবে মনে আমায়
রজনী কেটে যাবে অবহেলায়,
কেউ তো মনে রাখবে না,
তবে কি সবই মায়া
তবে কেন এই মিথ্যে কোলাহল
চঞ্চল মনে আজ প্রবল কৌতূহল।








নিশ্চুপ বিদায়

নিশ্চুপ বিদায় খানিকটা বাংলা খানিকটা বিহারী আর খানিকটা হিন্দি ভাষা মেশানো চিৎকারটা শুনতে পাচ্ছি মোড়ের শেষমাথার বাড়িটার সামনে থেকে। চিৎকারের ...